জ্ঞান সারমর্ম

IDZK ভাটায় জ্বালানী তৈরি করা হয় কী ভাবে?

এই ধরনের ভাটায় কঠিন জ্বালানী হিসেবে কয়লা, কাঠের গুড়ো, ধানের তুষ, গমের খড়, সরষে গাছের শুকনো ডাল, কাঠের ছিলকা-ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়লাই জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জ্বালানির কার্যকরী দহনের জন্য কঠিন জ্বালানী কে খুবই ছোট ছোট অংশে ভেঙে নিতে হয়। ছোট ছোট বেলচার মতো হাতা দিয়ে জ্বালানী ভাটায় প্রবেশ করাতে হয়।

0

Advertisement

কার্যকর কার্যকরী দহনের জন্য কয়লার কত ছোটো অংশ ভাটায় দেওয়া জরুরি?

ভাটায় দেওয়ার জন্য যে কয়লার স্তুপ তৈরি করা হয় তাতে কয়লা কণার ব্যাস কোনও ভাবেই দেড় ইঞ্চির বেশি হওয়া উচিত নয়। যদি কয়লার একটু বড় টুকরো কখনও ভাটায় চলে যায়, দেখা যায় অপেক্ষাকৃত ছোট অংশগুলির দহন সম্পূর্ণ হয়, কিন্তু অপেক্ষাকৃত বড় টুকরোগুলি ভাটার মোঝেয় পড়ে থাকে। সেগুলির আর দহন হয় না। তাই কয়লার সাইজ কী হবে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

কয়লার গুড়ো কীভাবে তৈরি করা হয়?

কার্যকর দহন এবং জ্বালানীর অপচয় রুখতে কয়লা প্রথমে পেষক বা ক্রাশারে পিষে নিতে হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত কয়লা একেবারে গুড়ো গুড়ো (দেড় ইঞ্চি ব্যাসের কম) হয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ কয়লা পিষে যেতে হয়। ইট ভাটায় কয়লা পেষার জন্য রোল ক্রাশার এবং হ্যামার মিলস ব্যবহার করা হয়।

যে সব পেষক যন্ত্র বা ক্রাশার ইট ভাটার জন্য ব্যবহার করা হয় সেগুলি হয় একটি পেষক দণ্ডযুক্ত (সিঙ্গল রোল) বা দুটি পেষক দণ্ডযুক্ত (ডাবল রোল)। একটি পেষক দণ্ডযুক্ত পেষক যন্ত্রে পেষক দণ্ডটি খাঁজকাটা কিংবা দাঁত যুক্ত বেলন চাকির আকৃতির হয়। ওই দাঁতযুক্ত পেষক দণ্ডটি ঘুরে ঘুরে বড় কয়লার টুকরোকে একটি স্থিতিশীল ধাতব পাতের গায়ে পিষতে থাকে। এর ফলে বড় কয়লার টুকরো ভাঙতে ভাঙতে কয়লার গুড়োর চেহারা নেয়। দুই পেষক দণ্ডযুক্ত পেষক যন্ত্রে দুটি দাঁতযুক্ত পেষক দণ্ড মুখোমুখি বসানে থাকে এবং দুটি বিপরীত দিকে ঘোরে। এই দুটি বিপরীত দিকে ঘুরতে থাকা পেষক দণ্ডের মাঝখানে পড়ে কয়লার টুকরো ভেঙে গুড়ো গুড়ো হয়ে যায়। দুই পেষক দণ্ডযুক্ত পেষক যন্ত্র অধিক কার্যকরী হলেও, সেগুলির দাম বেশি এবং তার রক্ষণাবেক্ষণে ঝক্কি অনেক বেশি।

হাতুড়ি পেষক বা হ্যামার মিল দুটি পর্যায়ে কয়লাকে ভাঙে। প্রথমে হাতুড়ির ঘায়ে কয়লা ভাঙে তারপরে হাতুড়ি ঘর্ষণ পাত বা গ্রিড প্লেটের গায়ে কয়লার ছোটে টুকরোগুলিকে চেপে ধরে গুড়ো গুড়ো করে। যে সব কয়লার টুকরো ঘর্ষণপাত এবং হাতুড়ির মধ্যবর্তী অংশে ঢুকতে পারে না, সেগুলিকে ফের হাতুড়ি গুড়ো করে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সব কয়লা গুড়ো হয়ে ঘর্ষণ পাতের সংস্পর্শে আসে ততক্ষণ হাতুড়ির ঘা মারা চলতে থাকে। হ্যামার মিলে কয়লার যে গুড়ো তৈরি হয় সেগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকায় ভাটায় দিলে তার দহন ভালো হয়। হাতুড়ির ঘূর্ণনের গতি, কত পরিমাণে কয়লা একবারে দেওয়া হচ্ছে এবং ঘর্ষণ পাত এবং হাতুড়ির অন্তর্বর্তী ফাঁক কতটা থাকছে তার উপরে নির্ভর করে।

জ্বালানী মজুত রাখার কার্যকর উপায় কি এবং তার গুরুত্ব কি?

কী ভাবে জ্বালানী মজুত রাখা হচ্ছে তার উপরে তার কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে। সঠিক ভাবে মজুত থাকলে জ্বালানী কম নষ্ট হয় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তার যে ক্ষয় হয় তা রোধ করা যায়। জ্বালানী মজুতের সময়ে তাপমাত্রা, যথাযথ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং জলীয় বাষ্প ঢুকে পড়ছে কী না তার উপরে নজর রাখতে হয়। ছাদ যুক্ত কোনও ঘরে ক্রংক্রিটের মেঝের উপরে জ্বালানী মজুত করাটাই বিজ্ঞাসম্মত পদ্ধতি। বৃষ্টি হলে জল যাতে কোনও ভাবেই ভিতরে ঢুকতে না পারে তার জন্য যথাযথ আচ্ছাদন ও নিকাশি ব্যবস্থাও রাখা জরুরি। জ্বালানী সঠিক ভাবে মজুত না করলে যে সব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলি হল-

  1. কয়লা যদি মাটির সংস্পর্শে এসে যায় তবে তার দহন ক্ষমতা কমে যায়।
  2. জলীয় বাষ্প ঢুকে গেলে কয়লাগুড়ো তাল পাকিয়ে যায়। তাই ভাটায় তা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মেঝেতে পড়ে যায়। কোনও কাজে আসে না। তা ছাড়া যেটুকু অংশ দহন এলাকার মধ্য়ে পড়ে সেগুলি জ্বলতে অতিরিক্ত সময় নেয়।
  3. পারিপাশ্বির্ক অক্সিজেনের সঙ্গে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বিক্রিয়া করে কয়লার গুড়োয় বিস্ফোরণের আশঙ্কা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার নয়। পারিপার্শ্বিক অক্সিজেনের সঙ্গে কয়লার গুড়ো কোনও ভাবে বিক্রিয়া ঘটালে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে তা এমন একটা অবস্থায় চলে আশে যার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। জ্বালানীর মজুত এলাকায় তাই সব সময়েই হাওয়া বাতাস খেলতে হয়। হাওয়া চলাচলের রাস্তা সুগম থাকলে অক্সিজেন কয়লার সঙ্গে বিক্রিয়া করলেও মজুত কয়লার তাপমাত্রা বাড়তে পারে না। তাই বিস্ফোরণের আশঙ্কা দূর হয়। লিগনাইটস কয়লার ক্ষেত্রে মজুত এলাকার তাপমাত্রা 50 ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখতে হয়। বিটুমিনাস কয়লা হলে তাপমাত্রা 80 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে চলে।
    কয়লা বড় বড় চাঙড় হিসেবে মজুত না করাই ভাল। 3 মিলিমিটার ব্যাসের কয়লার টুকরো মজুত রাখাই নিয়ম। বিটুমিনাস কয়লা হলে প্রতিটি ঢিবির উচ্চতা 2.5 m হতে হয় যেখানে 200 টন কয়লা মজুত রাখা যায়। লিগনাইটস কয়লা হলে প্রতিটি ঢিবির উচ্চতা 1.0 m এবং ওজন 50 টনের মধ্যে রাখাই ভাল।
  4. মজুত কয়লায় অক্সিডেশন বা জারণ শুরু হলে তার দহন ক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনই কয়লায় হাইড্রোজেন ও কার্বনের পরিমানও কমে যায়।
আরও জ্ঞান সারমর্ম জন্য এখানে ক্লিক করুন এখানে ক্লিক করুন IDZK ভাটায় জ্বালানী তৈরি করা হয় কী ভাবে? মেইন পেজে যাওয়ার জন্যClick here to go to User Home