ব্লগ

সাবেক থেকে পরিবেশ বান্ধব ইটভাটায় বদল: বিহারের অভিজ্ঞতা

Sonal Kumar | মঙ্গলবার 17 জুলাই 2018

2016 সালে বিহার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ পাটনার পাঁচটি প্রশাসনিক ব্লকে নির্দেশিকা জারি করে সাবেক ইট ভাটাগুলিকে পরিবেশবান্ধব ইটভাটায় রূপান্তরিত করতে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে কিছু সমস্যা হলেও, পরবর্তীকালে ইটভাটা মালিকেরা পরিবেশ বান্ধব ভাটার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন এবং অনেকেই নতুন প্রযুক্তির আঁকাবাঁকা পথের ভাটা তৈরিতে উৎসাহী হন। পুরনো প্রযুক্তি থেকে যাঁরা নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছেন তাঁরা ইতিমধ্যেই তার সুফল পেতে শুরু করেছেন।

বিহার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যে 190 টি ভাটার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছিল তার মধ্যে 103 টি (শতকরা 54 শতাংশ) সাবেক পদ্ধতি ছেড়ে আঁকাবাঁকা পথের ভাটার প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। সেইমতো ওই সব ভাটার রূপান্তর ঘটানো হয়েছে। 2016 সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর – এই ছয় মাসে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। যে সব ভাটা পরিবেশ বান্ধব হয়েছে তাদের শতকরা 76 শতাংশ NDZK প্রযুক্তি এবং বাকিরা IDZK প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। 2017 সালের ইট উৎপাদন মরসুমে (জানুয়ারি থেকে জুন) ওই সব ক’টি ভাটাই ইট তৈরি করেছে।

ওই ইট উৎপাদন মরসুমের শেষে রূপান্তরিত 66 টি ভাটায় সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, তাদের 68 শতাংশের ক্ষেত্রে কয়লার ব্যবহার কমেছে, 72 শতাংশের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির ইটের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে এবং 57 শতাংশ নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে, রূপান্তরিত 29 শতাংশ ভাটার মালিকেরা জানিয়েছেন ওই প্রযুক্তি যে ভাল তা তাঁরা বুঝতে পারলেও, বিভিন্ন কারণে যথাযথ ভাবে ওই প্রযুক্তি তাঁরা ব্যবহার করতে পারেননি। আর 14 শতাংশ মালিক নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারে খুশি নন। যে সব মালিকেরা নতুন প্রযুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁদের কারও ভাটার নির্মাণ সামগ্রী খুব খারাপ, কারও অভিজ্ঞ শ্রমিক তেমন নেই আবার অনেকে নতুন প্রযুক্তি ভাল ভাবে না বুঝেই তা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন।

যদিও বেশির ভাগ মালিকই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে তবে এই রূপান্তর কিন্তু খুব সহজ ছিল না। এই ছোট শিল্পে এই ধরনের প্রযুক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ। শুধু ভাটার মালিকেরাই এই নতুন প্রযুক্তি বুঝলে চলবে না, ভাটার প্রতিটি কর্মীকে ওই নতুন প্রযুক্তির ভাল-মন্দ সম্পর্খে অবহিত করা জরুরি। নতুন প্রযুক্তি কেন তা নিয়ে সবার সঙ্গে যেমন নিরন্তর কথা বলার দরকার রয়েছে, তেমনই শ্রমিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্য যে যা ভাল সেই বিষয়টি তাঁদের বোঝাতে হবে। নতুন প্রযুক্তির ভাটায় গিয়ে কী ভাবে সেগুলি ভাল ফল করছে তা বুঝে আসা জরুরি। নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে মালিকেরা www.brickguru.in ওয়েবসাইটটির সাহায্য নিতে পারেন। প্রযুক্তিটির গুণাগুন বুঝে অভিজ্ঞ কোনও মিস্ত্রি এবং ভাল নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তাঁরা নতুন প্রযুক্তির ভাটা তৈরি করলে অধিক লাভবান হবেন।

গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে আরও বেশি সংখ্যক ভাটা মালিক নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে প্রযুক্তিটি জানতে চাইছেন এবং যে সব ভাটা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছেন সেগুলি তাঁরা দেখতে যাচ্ছেন। যাঁরা এখনও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেননি, তাঁদের বোঝানো দরকার যে এই প্রযুক্তি মোটেই শক্ত নয়। ভাল করে বুঝতে পারলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কোনও ক্ষতি নেই। বরং শ্রমিক-মালিক সবারই লাভ। মালিকেরা এই বিষয়টি যতো বেশি বুঝবেন, ততোই পুরনো প্রযুক্তির ভাটা ছেড়ে তাঁরা নতুন প্রযুক্তির ভাটা গ্রহণ করবেন।

0

Sonal Kumar

Sonal Kumar

The writer is a Senior Consultant at
Greentech Knowledge Solutions Pvt. Ltd., New Delhi.

Advertisement

Advertisement

আরও ব্লগ জন্য এখানে ক্লিক করুন এখানে ক্লিক করুন সাবেক থেকে পরিবেশ বান্ধব ইটভাটায় বদল: বিহারের অভিজ্ঞতা মেইন পেজে যাওয়ার জন্যClick here to go to User Home