ব্লগ

ব্রিকগুরু: নির্মাণ শিল্পে কোথায় কী পরিবর্তন হচ্ছে তা জানার অন্যতম মাধ্যম

Sameer Maithel | মঙ্গলবার 17 জুলাই 2018

ভারত সহ বেশির ভাগ এশীয় দেশ, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় ইট এখনও পর্যন্ত অন্যতম প্রধান নির্মাণ সামগ্রী। গত 40 বছরে ভারতে ইটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮ গুন। এখন দেশে ইটের যা চাহিদা, আগামী 10-15 বছরে তা দ্বিগুন হবে। ইট নানা ধরনের হতে পারে: পোড়া মাটির ইট, সূর্যের তাপে পোড়ানো ইট, নানা ধরনের কংক্রিট এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের ইট। এর মধ্য়ে ভাটায় আগুনে পোড়ানো মাটির ইটের ব্যবহারই সর্বাধিক।

গ্রামীণ এলাকা এবং আধা শহর এলাকায় ছড়িয়েছিটিয়ে আছে ইটভাটা। এগুলি ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় পড়ে। এ দেশে বেশ কয়েক লক্ষ মানুষের রুটি রোজগারের মাধ্যম এই সব ইটভাটা। তারা গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। ইট তৈরিতে এখনও অনেক জায়গাতেই সাবেক পদ্ধতির চল রয়েছে। ওই পদ্ধতির যখন উদ্ভাবন হয়েছিল তখন ইটের চাহিদা যেমন কম ছিল, তেমনই প্রাকৃতিক সম্পদও ছিল অপর্যাপ্ত। কিন্তু বর্তমানে ওই পদ্ধতি অনেকটাই অচল। কারণ পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে ওই পদ্ধতি কার্যত অচল।

ইট ভাটার ক্ষেত্রে নতুন পরিবেশ বিধি তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর করাও শুরু হয়েছে। ইটের বাজারেরও সেই সঙ্গে অনেক বদল হয়েছে। এখন মনোলিথিক নির্মাণ প্রযুক্তি, কংক্রিটের প্যানেল, এবং অন্য প্রযুক্তিতে তৈরি নির্মাণ সামগ্রী বাজারে এসেছে। নতুন প্রযুক্তির তাগিদটা এসেছে মূলত নির্মাণ শিল্পের চাহিদার উপরে ভিত্তি করে। একদিকে যেমন দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে, তেমনই জলের ব্যবহার কমাতে হবে এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে দূষিত করা চলবে না। সাম্প্রতিক কালে জিএসটি (গুডস্ অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স) প্রযুক্ত হওয়ায় এবং ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক হওয়ায় দায়িত্ব বেড়েছে ভাটা মালিকদের। ইট ভাটার প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সবাই।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইট শিল্পের পরিমার্জন যে আবশ্যক হয়ে পড়েছে তা নিয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। ইতিমধ্যেই ইট শিল্পে বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এখন এটাই দেখার কী ভাবে ভাটা মালিক, সরকার এবং সমাজ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে। যতো তাড়াতাড়ি পুরনো ভাবধারা বদলে ফেলে ধাপে ধাপে সামগ্রিক পরিমার্জনের দিকে এগোনো যায়, ততই ইট শিল্পের মঙ্গল। এটাই টিকে থাকার একমাত্র রাস্তা। ইট উৎপাদক, ইটের ক্রেতা, সরকার এবং সাধারণ নাগরিকেরা যদি না একসঙ্গে উদ্যোগী হন তা হলেই এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সম্ভব।

ধাপে ধাপে সামগ্রিকপরিমার্জন কথাটার মানে কি? ইটের উৎপাদক এবং ক্রেতা দুই পক্ষকেই সারা বিশ্বে কোথায় কি ঘটছে সে ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। ধাপে ধাপে তাঁদের মানসিকতা বদলাতে হবে। তার জন্য কোথায় কী ভাবে পরিমার্জন ঘটে চলেছে তা জানার সুযোগ ইটের উৎপাদক ও ব্যবহারকারী উভয়কেই জানতে হবে। এর জন্য রয়েছে ব্রিকগুরু (BRICKGURU)। নীতি নির্ধারক, ইট উৎপাদক ও ইট ব্যবহারকারীদের কাছে ব্রিকগুরু উন্মুক্ত করে দিয়েছে তথ্যের ভাণ্ডার।

ইট শিল্পকে বাঁচাতে আগামী 25 বছরের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছে ব্রিকগুরু। এই পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের সমীক্ষা ও গবেষণার ফল। এই তথ্যভাণ্ডার তৈরির পিছনে ইট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ লোকেরাই শুধু নয়, গোটা দলের সঙ্গে রয়েছেন পরিবেশ গবেষক এবং প্রযুক্তিবিদেরাও। ব্রিকগুরু এমন একটা মাধ্যম যেখানে ইট উৎপাদক, ইট ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করতে পারেন। বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপিং, বিভিন্ন ইট ভাটার পরিবর্তনের চিত্র, ছোটোখাটো ঘটনা-সবই সরবরাহ করে ব্রিকগুরু। ইট উৎপাদক, ইট ব্যবহারকারীদের নিয়ে আলোচনাচক্রও করে থাকে ব্রিকগুরু।

প্রাথমিক ভাবে ব্রিকগুরুর মূল লক্ষ্য থাকে ভাটাগুলিকে পরিবেশ বান্ধব করা। পরবর্তী পর্যায়ে কী ভাবে উন্নত মানের প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত প্রজাতির ইট তৈরি করা যায় সেই তথ্য পরিবেশন করে ব্রিকগুরু। ছাই থেকে কী ভাবে ইট তৈরি করা যায়, কী ভাবে কংক্রিটের ইট তৈরি হয় সেই প্রযুক্তিও শেখানো হয় ইট উৎপাদক ও ইট ব্যবহারকারীদের।

বিভিন্ন সংস্থা আর্থিক সাহায্য নিয়ে পাশে না দাঁড়ালে ব্রিকগুরু একার পক্ষে এই কাজ করা কিন্তু সম্ভব হত না। যাঁরা ব্রিকগুরুর এই কর্মকাণ্ডকে সফল করতে সাহায্য করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। তাঁরা পাশে থাকলে ব্রিকগুরু আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে।

জ্ঞানের আলোক বর্তিকা হাতে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে ব্রিকগুরু।

0

Sameer Maithel

Sameer Maithel

The writer is the Director of
Greentech Knowledge Solutions Pvt. Ltd. New Delhi

Advertisement

Advertisement

আরও ব্লগ জন্য এখানে ক্লিক করুন এখানে ক্লিক করুন ব্রিকগুরু: নির্মাণ শিল্পে কোথায় কী পরিবর্তন হচ্ছে তা জানার অন্যতম মাধ্যম মেইন পেজে যাওয়ার জন্যClick here to go to User Home